নারায়ণগঞ্জে সাত জনকে অপহরণের পরই স্বজনরা র্যাবের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছিলেন। তাদেরকে উদ্ধারে বাহিনীটির স্থানীয় কার্যালয়ে ছুটেও গিয়েছিলেন তারা।
কিন্তু র্যাব-১১ এর সে সময়ের অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদ তাদেরকে ফিরিয়ে দেন। বলেন, এই ঘটনাটি তারা নয়, ঘটিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত নেতা শামীম ওসমান।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থেকে গাড়িতে করে তুলে নেয়া হয় সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম লিটন,
নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমকে।
আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে রায় ঘোষণা হয়।
বিচারক যে ২৬ জনকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে তাদের ১৭ জনই র্যাব সদস্য। আবার কারাদণ্ড পাওয়া নয় জনের সাত জনও এই বাহিনীটির সাবেক কর্মকর্তা।
এই রায়ের পর নিহত কাউন্সিলর নজরুলের শ্বশুর শহীদ কমিশনার আড়াই বছরেরও বেশি সময় আগে অপহরণের সেই দিনের স্মৃতিচারণ করেন।
জানান, র্যাব-১১ এর সে সময়ের কমান্ডার কীভাবে এই ঘটনাটিতে নিজেদেরকে বাঁচাতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন।
নজরুলের শ্বশুর বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই জানতাম র্যাব ধরে নিয়ে গেছে। আমরা র্যাবের অফিসে গিয়ে তারেক সাঈদের পা ধরে কান্নাকাটি করেছি।
তখন তারেক সাঈদ আমাকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছে। বলেছে, শামীম ওসমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে শামীম ওসমান এদেরকে মেরে ফেলেছে।’
এই হত্যায় প্রধান আসামি নুর হোসেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ডান হাত বলেই পরিচিত ছিলেন।
এই হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই দুই জনের একটি টেলিফোন আলাপে প্রকাশ হয়। নুর হোসেন শামীম ওসমানের মোবাইল ফোনে কল করে বলেছিলেন, তিনি এই হত্যায় জড়িত নন। তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় যে, নুর হোসেনকে শামীম ওসমানই ভারতে চলে যাওয়ার পথ বাতলে দেন। শামীম ওসমান পরে ২০১৪ সালের ১৪ মে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়।
তাকে নূর হোসেন ফোন করেছিলেন-এটা সত্য, কিন্তু তিনি তাকে বলেছিলেন আত্মসমর্পণ করতে। তিনি বলেন, নূর হোসেনের সঙ্গে তার কথোপকথনের পুরোটা পত্রিকায় ছাপা হয়নি। তিনি বলেন, ‘কিছু কাটা আছে, পুরো ব্যাপারটা সাজানো। আংশিক ছাপা হয়েছে, আংশিক হয়নি। কিংবা এডিটিং করেছে।’
ওই সংবাদ সম্মেলনেই শামীম ওসমান অভিযোগ করেন, ঘটনাটি র্যাবই ঘটিয়েছে। জানান, ২৭ এপ্রিল অপহরণের পর তিনি র্যাবের সঙ্গে কথা বলেছেন।
র্যাব তাকে আশ্বাস দিয়েছিল অপহৃত সাত জনকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে।
নূর হোসেনের সঙ্গে তার কথোপকথনের টেপ প্রকাশ কারা করেছে-ওই সংবাদ সম্মেলনে সে প্রশ্নও তুলেছিলেন শামীম ওসমান।

0 comments:
Post a Comment